ইমেইলে ফাইল পাঠাতে গিয়ে দেখলেন, অ্যাটাচমেন্ট বড় হওয়ায় যাচ্ছে না। কিংবা আবেদনের পোর্টাল বলছে, “ফাইলের সাইজ সীমার বেশি।” অথচ আপনার PDF-টি আসলেই দরকারি, বাদ দেওয়ার উপায় নেই। তখন একমাত্র পথ হলো ফাইলটিকে ছোট করা।
PDF ছোট করার কাজকে বলে PDF কমপ্রেস। কাজটা এক ক্লিকে হয়, কিন্তু একটি জিনিস অনেকেই জানেন না: কমপ্রেসের পদ্ধতি দুই রকম, আর কোন পদ্ধতিতে কী হারাবেন সেটি আগে বুঝে নিলে পরে অনেক ঝামেলা বাঁচে। এই লেখায় সেটাই খোলসা করা হয়েছে।
ফাইল যোগ করুন, তিনটি লেভেলের একটি বাছুন (হালকা, মাঝারি, বেশি), “কমপ্রেস করুন” চাপুন। কাজ শেষে আগের ও পরের সাইজ পাশাপাশি দেখতে পাবেন। ফাইল ব্রাউজারেই প্রসেস হয়।
একাধিক PDF ফাইল এক করতে চাইলে আমাদের Merge PDF Files টুল দেখতে পারেন। অনেক সময় আগে এক করে তারপর কমপ্রেস করলে কাজ সহজ হয়।
PDF কমপ্রেস করার টুল
PDF কমপ্রেস করুন
PDF ফাইলের সাইজ কমিয়ে ছোট করুন — ফ্রি, দ্রুত ও ১০০% সুরক্ষিত
ব্যবহারের ধাপ
- PDF যোগ করুন: “PDF ফাইল বেছে নিন” চাপুন বা ফাইল টেনে এনে ছেড়ে দিন। ফাইল খোলার পর নাম, সাইজ ও পেজ সংখ্যা দেখা যাবে।
- লেভেল বাছুন: হালকা, মাঝারি বা বেশি। শুরুতে মাঝারি বাছা থাকে।
- “কমপ্রেস করুন” চাপুন: প্রগ্রেস বার চলবে, পেজ বেশি হলে একটু সময় লাগবে।
- ফলাফল দেখুন: “আগে” ও “পরে” সাইজ দুটি বার দিয়ে পাশাপাশি দেখানো হয়, সঙ্গে কত শতাংশ কমেছে।
- ডাউনলোড করুন: ফাইলের নামের শেষে
-compressedযুক্ত হয়। ডাউনলোডের পর একবার খুলে পড়ে দেখুন।
PDF কেন এত বড় হয়
কমপ্রেস করার আগে জানা দরকার, ফাইল বড় হয় কেন। কারণ সাধারণত তিনটি:
- ছবি। ফোনের ক্যামেরা বা স্ক্যানারের ছবি PDF-এ ঢোকালে প্রতিটি ছবির পুরো সাইজই ফাইলে যোগ হয়। কয়েকটি ছবিযুক্ত পেজেই ফাইল ভারী হয়ে যায়।
- স্ক্যান করা কাগজ। স্ক্যান করা PDF আসলে প্রতিটি পেজের একটি করে ছবি। তাই এতে লেখা কম থাকলেও সাইজ বেশি।
- এমবেড করা ফন্ট ও অতিরিক্ত তথ্য। কিছু ফাইলে ফন্ট, লুকানো তথ্য বা আগের সংস্করণের অবশিষ্টাংশ থেকে যায়।
শুধু লেখাওয়ালা PDF সাধারণত এমনিতেই ছোট থাকে। বড় ফাইলের বেশিরভাগই ছবির দখলে, তাই কমপ্রেসের আসল কাজ ছবির ওপর।
তিনটি লেভেলের আসল পার্থক্য
এই জায়গাটাই এই লেখার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তিনটি লেভেল শুধু “কম, মাঝারি, বেশি” নয়। হালকা আর বাকি দুটির কাজের পদ্ধতিই আলাদা।
| বিষয় | হালকা | মাঝারি | বেশি |
|---|---|---|---|
| কীভাবে কাজ করে | ফাইলের ভেতরের কাঠামো গুছিয়ে আবার সেভ করে। ছবি বা লেখা বদলায় না। | প্রতিটি পেজকে ছবি বানিয়ে (প্রায় ১০৮ DPI, ৬২% কোয়ালিটি) নতুন PDF তৈরি করে। | প্রতিটি পেজকে ছবি বানিয়ে (প্রায় ৮৬ DPI, ৪৫% কোয়ালিটি) নতুন PDF তৈরি করে। |
| সাইজ কমে | সাধারণত অল্প। অনেক ফাইলে প্রায় কিছুই কমে না। | বেশ ভালো, বিশেষ করে ছবিসমৃদ্ধ বা স্ক্যান করা ফাইলে। | সবচেয়ে বেশি। |
| লেখা নির্বাচন ও কপি | আগের মতোই থাকে। | আর থাকে না, লেখা ছবিতে পরিণত হয়। | আর থাকে না। |
| লিংক, ফর্ম ঘর | থাকে। | থাকে না। | থাকে না। |
| দেখতে কেমন | হুবহু আগের মতো। | সাধারণ পড়ার জন্য ঠিক আছে, জুম করলে সামান্য নরম লাগে। | স্পষ্ট ঝাপসা ভাব আসতে পারে, ছোট লেখা কষ্টে পড়তে হয়। |
হালকা মোডে ফাইলের টাইটেল, লেখকের নাম, বিষয় ও কিওয়ার্ড মুছে ফেলা হয়। ব্যক্তিগত তথ্য কমানোর জন্য এটা ভালো, কিন্তু ফাইলে যদি নির্দিষ্ট টাইটেল দরকার হয়, তাহলে পরে আবার বসিয়ে নিতে হবে।
কোন ফাইলে কোন লেভেল
ফাইলের ধরন দেখে লেভেল ঠিক করুন:
রিপোর্ট, চুক্তি, বই। হালকা মোড নিন। মাঝারি বা বেশি নিলে লেখা ছবি হয়ে যাবে এবং ফাইল উল্টে বড়ও হতে পারে।
সনদ, মার্কশিট, ফর্ম। মাঝারি দিয়ে শুরু করুন। এগুলো আগে থেকেই ছবি, তাই ছবি হওয়ায় ক্ষতি নেই।
মাঝারি বা বেশি। ছবির সাইজই এখানে মূল সমস্যা, তাই ভালো কমে।
হালকা ছাড়া অন্য লেভেলে লিংক ও ফর্ম ঘর কাজ করা বন্ধ হবে। এমন ফাইলে হালকা বাছুন।
ফলাফল পড়ার নিয়ম
কাজ শেষে “আগে” ও “পরে” সাইজের দুটি বার আসে। বারের পাশে সংখ্যাও লেখা থাকে। তিনটি অবস্থা হতে পারে:
- সাইজ কমেছে: সবুজ ব্যাজে কত শতাংশ কমেছে দেখাবে। ডাউনলোড করে ফাইলটি খুলে মান দেখে নিন।
- সাইজ কমেনি: ব্যাজে লেখা আসবে ফাইলটি আগে থেকেই অপ্টিমাইজড। হালকা মোডে এমন বেশি হয়। তখন মাঝারি বা বেশি লেভেল চেষ্টা করতে পারেন।
- সাইজ বেড়ে গেছে: শুধু লেখাওয়ালা ফাইলে মাঝারি বা বেশি মোড দিলে এমন হতে পারে, কারণ লেখা ছবি হয়ে গেলে ফাইল বড় হয়। এ ক্ষেত্রে আসল ফাইলটিই রাখুন।
নির্দিষ্ট সাইজে নামাতে চাইলে
অনেকের লক্ষ্য থাকে, যেমন “২০০ KB-এর নিচে লাগবে।” এই টুলে সাইজ লিখে দেওয়ার ঘর নেই, তাই লক্ষ্য মেলানোর জন্য ধাপে ধাপে এগোতে হয়:
- ফাইলে অতিরিক্ত পেজ থাকলে আগে বাদ দিন। কম পেজ মানে কম সাইজ।
- হালকা দিয়ে শুরু করুন। লেখাওয়ালা ফাইলে এতেই কাজ হতে পারে।
- না হলে মাঝারি। ফলাফলে “পরে” সাইজ দেখুন।
- তবুও বেশি থাকলে “বেশি”। এবার লেখা পড়া যাচ্ছে কি না যাচাই করুন।
- তারপরও না হলে মূল ছবির দিকে ফিরুন। PDF বানানোর আগে ছবিগুলোর রেজোলিউশন কমিয়ে নিলে অনেক সময় সবচেয়ে ভালো ফল আসে।
একটি PDF-কে বারবার কমপ্রেস করলেও সাইজ কমে, কিন্তু প্রতিবার মানও পড়ে। তাই আসল ফাইল থেকেই বারবার নতুন করে চেষ্টা করা ভালো।
বাস্তব পরিস্থিতি
স্ক্যান করা সনদ ও মার্কশিট পোর্টালে জমা দেওয়া
পোর্টালের সীমা পেরোলে মাঝারি লেভেল দিন। ডাউনলোডের পর ফাইলটি খুলে নাম, রোল ও নম্বর স্পষ্ট পড়া যাচ্ছে কি না দেখুন। সীমা আপনার ফাইলের চেয়ে ছোট হলে “বেশি” নিন, কিন্তু আগে পড়ার যোগ্যতা যাচাই করুন।
ইমেইলে চুক্তিপত্র বা রিপোর্ট পাঠানো
এসব ফাইলে লেখা, টেবিল ও সইয়ের লাইন থাকে। হালকা লেভেলে লেখা ও গঠন ঠিক থাকে। সাইজ না কমলে বুঝবেন ফাইলটি আগে থেকেই ছোট, ইমেইলের সীমা অন্য কারণে পেরোচ্ছে কি না দেখুন।
ফোনের ছবি দিয়ে বানানো PDF হোয়াটসঅ্যাপ বা মেসেঞ্জারে পাঠানো
অ্যাপগুলো বড় ফাইল পাঠাতে ধীর হয়ে যায়। ছবির PDF-কে মাঝারিতে নামালে পাঠানো সহজ হয়। প্রাপকের কাজ ছবি দেখা হলে এতেই চলে।
লিংকওয়ালা ব্রশিওর বা ক্লিক করা যায় এমন ফর্ম
এ ধরনের ফাইলে ক্লিকযোগ্য লিংক বা পূরণযোগ্য ঘর থাকে। মাঝারি বা বেশি দিলে এগুলো কাজ করা বন্ধ করে দেয়। তাই হালকা ছাড়া অন্য কিছু না বাছাই ভালো।
পুরনো স্ক্যান করা বই বা নোট ফোনে রাখা
স্টোরেজ বাঁচাতে মাঝারি দিন। পড়তে অসুবিধা না হলে ওই ফাইলই রেখে দিন, আর আসল ফাইলটি অন্য কোথাও ব্যাকআপ রাখুন।
কমপ্রেসে যা হারাতে পারেন
- লেখা কপি, সিলেক্ট বা সার্চ করা যাবে না।
- লিংক, বুকমার্ক ও ফর্ম ঘর কাজ করবে না।
- স্ক্রিন রিডারের মতো সহায়ক সফটওয়্যার লেখা পড়তে পারবে না।
- শুধু লেখাওয়ালা ফাইলে সাইজ বেড়ে যেতে পারে।
- এই লেভেলে সব পেজই কমপ্রেস হয়। কিছু পেজ আলাদা রাখার সুবিধা নেই।
পেজের মাপ অবশ্য আগের মতোই থাকে। A4 পেজ কমপ্রেসের পরেও A4 থাকে।
কোনো গুরুত্বপূর্ণ আইনি বা আর্থিক ফাইল কমপ্রেস করলে আসল কপি আলাদা করে রেখে দিন। কমপ্রেস করা ফাইলটি শুধু পাঠানোর জন্য ব্যবহার করুন।
ফাইল কতটা নিরাপদ?
কমপ্রেস করার ফাইলে প্রায়ই ব্যক্তিগত বা আর্থিক তথ্য থাকে। অনেক অনলাইন টুল ফাইল সার্ভারে আপলোড করে প্রসেস করে এবং কিছুক্ষণ পর মুছে ফেলে। এই টুলে কাজ আপনার ব্রাউজারেই হয়, ফাইল সার্ভারে যায় না। তবে মনে রাখবেন:
- টুল চালু করতে ব্রাউজার ইন্টারনেট থেকে PDF সংক্রান্ত লাইব্রেরি নামায়। তাই কাজ শুরুর সময় ইন্টারনেট দরকার।
- ডাউনলোড করা ফাইল আপনার ডিভাইসেই থাকে। অন্যের কম্পিউটার বা সাইবার ক্যাফেতে কাজ করলে শেষে মুছে ফেলুন।
সমস্যা হলে কী করবেন
এই টুল পাসওয়ার্ড দেওয়া ফাইল নেয় না। পাসওয়ার্ড ছাড়া একটি কপি বানিয়ে আবার চেষ্টা করুন।
ফাইলটি নষ্ট হতে পারে। অন্য রিডারে খুলে দেখুন।
ইন্টারনেট সংযোগ ঠিক আছে কি না দেখে পেজ রিফ্রেশ করুন।
ফাইলটি আগে থেকেই ছোট বা অপ্টিমাইজড। হালকার বদলে মাঝারি দিয়ে দেখুন, তবে লেখা ছবি হয়ে যাবে।
“বেশি” থেকে “মাঝারি”-তে ফিরুন। ফাইল একটু বড় হলেও পড়তে সুবিধা হবে।
মাঝারি ও বেশি মোডে প্রতিটি পেজ রেন্ডার হয়, তাই পেজ যত বেশি, মেমোরির ওপর চাপও তত বেশি। ফাইলটিকে আগে কয়েক ভাগে ভেঙে নিয়ে প্রতিটি আলাদাভাবে কমপ্রেস করুন।
ভুল ধারণা বনাম সঠিক তথ্য
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
PDF কমপ্রেস টুল কি ফ্রি?
হ্যাঁ। ব্যবহার করতে টাকা লাগে না এবং অ্যাকাউন্ট খোলারও দরকার নেই।
কমপ্রেস করলে কি লেখার মান কমে?
হালকা মোডে লেখার মান একই থাকে। মাঝারি ও বেশি মোডে পেজ ছবিতে পরিণত হয়, ফলে লেখা কিছুটা নরম বা ঝাপসা দেখাতে পারে।
কোন লেভেল বাছব?
শুধু লেখাওয়ালা ফাইলে হালকা। স্ক্যান করা বা ছবিযুক্ত ফাইলে মাঝারি দিয়ে শুরু করুন। আরও ছোট দরকার হলে বেশি।
কমপ্রেসের পর কি লেখা কপি করা যাবে?
হালকা মোডে যাবে। মাঝারি ও বেশি মোডে যাবে না, কারণ লেখা তখন ছবি হয়ে যায়।
নির্দিষ্ট সাইজ, যেমন ২০০ KB, কীভাবে পাব?
টুলে সাইজ লিখে দেওয়ার ঘর নেই। হালকা, মাঝারি, বেশি এই ক্রমে চেষ্টা করুন এবং ফলাফলে “পরে” সাইজ মিলিয়ে দেখুন। প্রয়োজনে অপ্রয়োজনীয় পেজ বাদ দিন।
পাসওয়ার্ড দেওয়া PDF কি কমপ্রেস করা যাবে?
না। আগে পাসওয়ার্ড সরিয়ে একটি কপি বানিয়ে নিন।
আমার PDF কি সার্ভারে যায়?
না। কাজ ব্রাউজারেই হয়। তবে টুল চালু হতে ইন্টারনেট থেকে প্রয়োজনীয় লাইব্রেরি লোড হয়।
শেষ কথা
PDF কমপ্রেসের মূল কথাটা হলো সাইজ আর মানের মধ্যে একটি সমঝোতা। ফাইলের ধরন বুঝে লেভেল বাছুন, ফলাফলের “আগে” ও “পরে” সাইজ মিলিয়ে দেখুন, আর ডাউনলোডের পর ফাইলটি খুলে লেখা পড়া যাচ্ছে কি না যাচাই করুন। গুরুত্বপূর্ণ ফাইলের আসল কপি সবসময় আলাদা রেখে দেবেন।
লেখাটি কাজে লাগলে শেয়ার করুন, আর একাধিক PDF এক করতে আমাদের Merge PDF Files টুলও দেখে নিতে পারেন।